ধনবাড়ী উপজেলা বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।
| ধনবাড়ী | |
|---|---|
| উপজেলা | |
| বাংলাদেশে ধনবাড়ী উপজেলার অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক: ২৪°৩৭′০″ উত্তর ৯০°১′৩০″ পূর্বস্থানাঙ্ক: ২৪°৩৭′০″ উত্তর ৯০°১′৩০″ পূর্ব | | |
ইউনিয়ন মোট ০৭টি। ইউনিয়নগুলো হলোঃ বীরতারা, বানিয়াজান, পাইস্কা, ধোপাখালী, যদুনাথপুর, মুশুদ্দি ও বলিভদ্র। পৌরসভা ০১টি ধনবাড়ী
মোট লোক সংখ্যা ২,০৩,২৮৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১,০১,৯১২ জন এবং মহিলা ১,০১৩৭২ জন।
ধনবাড়ী উপজেলার ৮টি কলেজ, ২৭টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১৬ টি মাদ্রাসা, ৪৫ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৮টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
ধনবাড়ি নওয়াব আলী হাসান আলী রয়েল রিসোর্ট, ধনবাড়ি নওয়াব মসজিদ এবং ধনবাড়ি নওয়াব ইনষ্টিটিউশন (মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপিত - ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দ)।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ১৮০, মন্দির ৩, গির্জা ৬।
শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩৮.৩৩%; পুরুষ ৪০.৬২%, মহিলা ৩৬%। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ধনবাড়ী ডিগ্রি কলেজ (১৯৬৭), ধনবাড়ী নওয়াব ইনস্টিটিউশন (১৯১০), পানপাতা ইসলামিয়া হাইস্কুল (১৯৪৩), পাইশকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬০), ফকির আফাজ উদ্দিন হাইস্কুল (১৯৬৯)। কদমতলী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৬)
জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৭৭.৩৭%, অকৃষি শ্রমিক ১.৯২%, শিল্প ০.৫৩%, ব্যবসা ৭.৭১%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ২.২৬%, চাকরি ০.৬৫%, নির্মাণ ০.১৮%, ধর্মীয় সেবা ৩.৭৬%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.৩১% এবং অন্যান্য ৫.৩১%।
কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৪৪.৬৮%, ভূমিহীন ৫৫.৩২%। শহরে ৩২.২৭% এবং গ্রামে ৫০.৭৪% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।
প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, আখ, আলু, শাকসবজি।
বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি মটর, খেসারি, মাষকলাই ডাল, মিষ্টিআলু, তিল।
প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, পেঁপে।
মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এ উপজেলায় মৎস্য, গবাবিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার রয়েছে।
যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৪৫ কিমি, কাঁচারাস্তা ২৮৭ কিমি; নৌপথ ৭ নটিক্যাল মাইল।
বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন ঘোড়া ও গরুর গাড়ি, পাল্কি, ডুলি।
শিল্প ও কলকারখানা রাইসমিল, বেকারি, স’মিল।
কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, মৃৎশিল্প, লৌহশিল্প, তাঁতশিল্প, সেলাই, বাঁশ, বেত ও কাঠের কাজ।
হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ২০, মেলা ৩। ধনবাড়ী হাট, পাইশকা হাট, ধোপাখালী হাট, বলিভদ্র হাট, মুসুদ্দি হাট এবং ধনবাড়ীর বৈশাখী মেলা উল্লেখযোগ্য।
প্রধান রপ্তানিদ্রব্য পাট, আখের গুড়, আলু।
বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ১৯.৩৪% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯৩.৮৩%, পুকুর ০.১৮%, ট্যাপ ০.৪৫% এবং অন্যান্য ৫.৫৪%।
স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ৩৮.৪৭% (গ্রামে ২৫.৪৬% ও শহরে ৬৫.১৩%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৪৯.৩৬% (গ্রামে ৮.৪৫% ও শহরে ৩০.৭৫%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ১২.১৭% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ১, দাতব্য চিকিৎসালয় ১, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ৪, ক্লিনিক ৩।
এনজিও ব্র্যাক, প্রশিকা। [সাজেদা বেগম]
তথ্যসূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; ধনবাড়ী উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।